ভাইয়ের আর দই খাওয়া হলো না দিদির হাতে

ভাইয়ের আর দই খাওয়া হলো না দিদির হাতে

বেশ কয়েক দিন ধরে দিদির কাছে আবদার করছিলো ছোট ভাই দই খাওয়ার জন্য। দিদি কথা দিয়েছিলো বাজারে যখন যাবে তখন দই নিয়ে আসবে। গতকাল বিকালে দিদি ও ভাই দুজনে বাড়িতে প্রার্থনা সেরে মা ও মেয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিল। ডাক্তারের কাছে ভিড় দেখে বাড়ি ফেরার পথে ভাইয়ের জন্য দই কিনে বাড়িতে ফিরে আসে। এসে দেখে ভাই সুভেন্দ্র মন্ডলের নিথর দেহ বিছানায় পড়ে আছে। ঘটনাটি ডায়মন্ড হারবার থানার সরিষা এলাকার কলাগাছিয়া গ্রামের ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবা সুজিত মন্ডল পেশায় কাঠ ব্যাবসায়ি আবার মিষ্টি তৈরী করতে জানে, গতকাল মহরমে একটি মিষ্টির দোকানে মিষ্টি তৈরী করতে গিয়েছিল। ছোট ছেলেকে বাড়িতে রেখে মা ও মেয়ে দুজনে গিয়েছিলো ডাক্তারের কাছে। দেরি হবে বুঝতে পেরে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসে মা মেয়ে বাড়িফিরে এসে দেখেন ছেলের নিথর দেহ বিছানায় পড়ে আছে

নিহতের দিদি স্নেহা মন্ডল জানান, ভাই আমি দুজনে বাড়িতে প্রার্থনা সেরে মায়ের সঙ্গে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল। ডাক্তার দেখাতে গিয়ে দেখি ভিড় সেজন্য বাড়ি ফিরে আসি। আসার পথে ভাইয়ের জন্য দই কিনে আনি ও কয়েকদিন আমার কাছে দই খাওয়ার জন্য আবদার করছিলো। দই নিয়ে বাড়ি ফিরে ভাইকে ডাকি কোন সাড়া না পেয়ে ভাবলাম হয়তো কোথাও খেলা করতে গিয়েছে। তারপর ঘরের মধ্যে এসে দেখি ভাই বিছানার উপর পড়ে আছে ডাকতে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তারপর পাশে কাকাদের বাড়ি ওদের ডাকতে ওরা এসে ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যওয়া হয়। ডাক্তাররা দেখে বলেন আমার ভাই আর নেই ওকে মারা হয়েছে বলে দাবি করেন দিদি স্নেহা মন্ডল।

নিহতের কাকা আজয় মন্ডল জানানা,আমরা বাড়িতে ছিলাম ওরা ডাকতে গিয়ে দেখি ছেলেটি বিছানায় পড়ে আছে ওকে তুলে নিয়ে প্রথমে স্থানীয় সরিষা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ওখান থেকে তাকে ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের গলায় দাগ থাকলে পাশে কিছু পাওয়া যায়নি।

নিহতের পরিবারের দাবি ওকে খুন করা হয়েছে, তবে কে বা কারা ওকে কেন মারলো তা নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠছে এলাকায়। পুলিশ মৃতদেহ টি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মরগে পাঠিয়েছে। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মামলা রুজু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

Please follow and like us:

Related posts