অমিল পদ্ম, পদ্মহীন পূজো

কথিত আছে, অকালবোধনের সময় একটি পদ্মের অভাবে রামচন্দ্র দেবীকে তুষ্ট করতে নিজের একটি চোখ নিবেদন করেছিলেন । কিন্তু এবছর দূর্গাপূজা উদ্যোক্তারা কি করবেন তা ভেবে কুল করে উঠতে পারছেন না। কারন এবছর পূজোয় ১০৮ টি পদ্ম জোগাড় করতে যে তাদের হিমশিম খেতে হবে তা প্রায় নিশ্চিত । সৌজন্যে ,পদ্মের আকাল।

রেললাইনের ধারে, নদীর পাড়ে নিচু জলাশয়গুলিতে ফুঁটে রয়েছে অসংখ্য পদ্ম। বর্ষার সময় পাঁপড়ি মেলা পদ্মের সেই দৃশ্য দেখতে অভ্যস্ত উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট, বাদুড়িয়া, স্বরুপনগর,দেগঙ্গা, হাসনাবাদ এলাকার মানুষ ।কিন্তু এবছর এ চিত্রটা পুরোপুরি পাল্টে গেছে। অনান্য বারের তুলনায় এ বছর পদ্মের জোগান অনেকটাই কম। কিন্তু চাহিদা আছে। এরজন্য পদ্মচাষী ও ব্যবসায়ীরা দায়ী করেছেন বৃষ্টির খামখেয়ালিপনা ও পরপর নিম্নচাপকেই। যার ফলে মার খেয়েছে পদ্মচাষ। বিঘের পর বিঘে জমি তে পদ্মগাছ মারা গেছে।

 

পদ্মের এই আকালে রীতিমতো মাথায় হাত পূজো উদ্যোক্তাদের। কারন, দূর্গাপূজা তে ১০৮ টি পদ্ম লাগেই। অন্যবছর যেখানে এক একটি পদ্ম তারা কিনেছেন ৫ থেকে ৬ টাকার মধ্যে , এ বছর সেখানে চাহিদার তুলনায় জোগান অর্ধেকের ও কম হওয়ায় দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় তিনগুন। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সেক্ষেত্রে তাদের বাজেটেও টান পড়ার আশঙ্কায় উদ্যোক্তারা।

পদ্মের চাষ মার খাওয়ায় লোকসানের মুখে পদ্মচাষীরাও। শারদীয়ার আনন্দোৎসবের দিনগুলো তাদের বা তাদের পরিবারের জন্য খুশী বয়ে আনবে কি?? উত্তর সময়ই বলবে।

Please follow and like us:

Related posts