শিক্ষার শহর মহিষাদলের শিক্ষার সেকাল-একাল

“শিক্ষার শহর মহিষাদলের শিক্ষার সেকাল-একাল”

সুদীপ্ত আগুয়ান: পূর্ব মেদিনীপুর:আধূনিক ইতিহাসচর্চার অঙ্গ হিসাবে শিক্ষার বিবর্তনের ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।মহিষাদলের শিক্ষা বিষয়টির ওপর আনুসন্ধিন করে শিক্ষা বিবর্তন ও অগ্রগতি বিষয়ে বহু তথ্য জানা যায়।বর্তমান কালের শিক্ষা ব‍্যবস্হার ওপর এই অঞ্চলের শিক্ষার একটি বিশেষ প্রভাব পড়েছে।ফলে,জনসাধারণের জীবনযাত্রার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে।

অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে মহিষাদলের শিক্ষা ব‍্যবস্হা ছিল সংকীর্ণ।পাঠশালা ও মাদ্রাসা কেন্দ্রীক ধর্মীয় শিক্ষা।বিত্তবান ব‍্যক্তিরা পারিবারিক পরিকাঠামোর মধ্যে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ব‍্যবস্হা করেছিলেন।অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে রাজা লছমন প্রসাদ গর্গ তাঁর অনুরূপে শিক্ষিত করার জন্য বাড়তে একজন ইংরেজ গভর্নেন্স নিয়োগ করেন।এই গভর্নেন্স ও তার পরিবারকে রাখার জন্য হিজলি ক‍্যানেলের পূর্বপাড়ে ফরাসি স্হাপত‍্যশৈলী একটি বাড়ি নির্মাণ করে।ওই বাড়িতেই রাজা লছমন প্রসাদ গর্গ ১৮৭৪ খ্রিঃ রাজ ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠা করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেন।এই স্কুলটি অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার সর্বপ্রথম উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়।এইভাবে মহিষাদলে পাশ্চাত্য শিক্ষা ব‍্যবস্হা প্রবর্তিত হয়।মহিষাদল রাজ ইংলিশ স্কুল পরে রাজহাই স্কুল নামে পরিচিত হয়।

মহিষাদলে শিক্ষার ক্ষেত্রে দেবপ্রসাদ গর্গের ভূমিকাকে অস্বীকার করা যায় না।মেদিনীপুর জেলার তৃতীয় কলেজ রাজ কলেজ (১৯৪৬খ্রিঃ) তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।প্রথমে কলেজটি কলকাতা ইউনিভার্সিটির অধীনে থাকলেও ১৯৮৬ খ্রিঃ পর থেকে বিদ‍্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়।এই কলেজটি প্রথমে খুব ছোট আকারে প্রতিষ্ঠিত হলেও পরে বিভিন্ন আকার নিয়ে বৃহৎ আকার ধারণ করেছে।এই কলেজের মূল উদ্দেশ্য হল জ্ঞান, মূল‍্যবোধ,উন্নতি।এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত পাশ্ববর্তী সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।কলেজটিতে বর্তমানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বেশকিছু বিষয় পড়ানো হয়।যেগুলি শুধু কলেজটিকে না মহিষাদল অঞ্চলটিকে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।মহিষাদলে প্রচলিত ছিল।

১৯৬৯ খ্রিঃ মহিলাদের শিক্ষিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় মহিষাদল গার্লস কলেজ।এটি অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার দ্বিতীয় কলেজ।দেবপ্রসাদ গর্গ নারী শিক্ষার উদ্দেশ্যে তমলুকে নিজ ভগিনী সান্তনার নামে সান্তনাময়ী বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি শুধু বিদ‍্যালয় প্রতিষ্ঠা নয়,কলেজ ও বিদ‍্যালয়ে অর্থদানও করতেন।এমনকি রাজগড়ে ছাত্রদের থাকার জন‍্যও ব‍্যবস্হা করেন।মহিষাদল গার্লস কলেজ হল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একমাত্র মহিলা কলেজ।এই কলেজ প্রতিষ্ঠাতে যাদের ভূমিকা চিরস্মরণীয় তাঁরা হলেন ডঃসত‍্যেন্দ্রনাথ ভুঁইয়া,রবীন্দ্রনাথ সিংহ,ডঃহরিদাস সরকার, গোপালচন্দ্র মন্ডল সহ এলাকার বেশকিছু গণ‍্যমান‍্য ব‍্যক্তি।তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল মহিষাদলসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষারও সুব‍্যবস্হা করা।সেই ব‍্যবস্হার গুণগত উন্নতি বর্তমানেও যে হয়েছে তার প্রমাণ এলাকার প্রাথমিক স্কুলগুলি।তবে এটুকু জানা যায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি ক্রমশ তাদের শ্রী হারাচ্ছে।বেসরকারি স্কুলগুলি বর্তমানে মহিষাদলে শিক্ষার বিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।

Please follow and like us:

Related posts