চিরিয়াখানায় এবার থেকে সজারু পেঁচাদের দিনের বেলায় দেখতে পাবেন

আলিপুর চিড়িয়াখানায় দর্শকেরা থাকতে পারেন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা স্লো-লরিস, পেঁচা ও সজারুদের দেখতে পান না। কারণ, এরা সবাই নিশাচর। দিনের আলো চড়া হতে শুরু করলেই চিড়িয়াখানায় নিজের নিজের খাঁচায় ‘শেল্টার’ অর্থাৎ আরও ভিতরে, দর্শকচক্ষুর আড়ালে ঢুকে পড়ে নিশাচর প্রাণীরা। দর্শকদের কাছে তারা অধরাই থেকে যায়। তবে দর্শকদের সেই আফসোস এ বার মিটতে চলেছে।

আলিপুর চিড়িয়াখানায় এ বার তৈরী হচ্ছে ‘নকটারনাল হাউস’ বা নিশাচরদের ঘর।
ওই জায়গায় দিনেও কৃত্রিম ভাবে রাতের পরিবেশ তৈরী করে নিশাচর প্রাণীদের রাখা হবে। জ্যোৎস্নার আলোর পরিবেশও দিনে দুপুরে ফুটিয়ে তোলা হবে সেখানে। ফলে, দর্শকেরা যখন চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখেন, সেই সময়ে ওই জন্তুদের শেল্টারে না ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা। নিশাচর প্রাণীরাও সে ক্ষেত্রে দৃশ্যগোচর হবে দর্শকদের কাছে।

ওই বিশেষ ঘর তৈরী হলে আলিপুর চিড়িয়াখানায় এক নতুন অতিথির আগমন হবে। প্যাঙ্গোলিন। আলিপুরে এখন যা নেই। নিশাচর প্রাণীদের জন্য আলাদা ‘এনক্লোজার’ হলে অন্য কোনও চিড়িয়াখানা থেকে এখানে প্যাঙ্গোলিন আনা হবে বলে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

তাঁদের বক্তব্য, আসন্ন শীত মরসুমেই নিশাচরদের ঘর তৈরী হয়ে যাবে। সেই জন্য এখন কাজ চলছে পুরোদমে।চিড়িয়াখানায় গন্ডারের এনক্লোজারের কাছে ‘গাব্বি হাউস’ নামে একটি জায়গা আছে। যা বহুকাল ধরে পরিত্যক্ত। ওই সাবেক গাব্বি হাউসের আমূল সংস্কার করেই তৈরী হচ্ছে নকটারনাল হাউস। ৫২ ফুট লম্বা ও ১৭ ফুট চওড়া পুরোনো গাব্বি হাউসের ভিতরে তৈরী পর পর চারটি খাঁচা তৈরী করা হচ্ছে। প্রাণীদের এনক্লোজার ঘেরা থাকবে কাচ দিয়ে। এনক্লোজারের পিছন দিকে থাকবে প্রাণীদের খাঁচার যাওয়ার পথ। প্রতিটি প্রাণীর এনক্লোজারে তৈরী করা হবে তাদের স্বাভাবিক পরিবেশ।

Please follow and like us:

Related posts