নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সেজে উঠছে জেলার পিকনিক স্পটগুলি

তুহিন শুভ্র আগুয়ান: পূর্ব মেদিনীপুরঃনতুন বছর আর হাতেগোনা কয়েকদিন মাত্র বাকি।ফলে সেজে উঠছে জেলার পিকনিক স্পট গুলি।পূর্ব মেদিনীপুরের বহু পিকনিক স্পট গুলির সৌন্দর্য হাতছানি দিচ্ছে ভ্রমণপিপাসু বাঙালিদের।শীত পড়তেই পিকনিক স্পট সংলগ্ন হোটেল গুলিতে শুরু হয়েছে বুকিং পর্বও।

দীঘায় বিশাল সমুদ্র সৌকত সহ রয়েছে বর্তমান তরুণ-তরুণিদের জন্য রয়েছে সবুজ ঝাউ বাগান।সবুজ গাছ-গাছালি আর ফুলের সম্ভারে সাজানো রয়েছে অমরাবতী পার্ক।এই পার্কের ভেতর প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে ভ্রমণ করতে প্রতি বছর ভিড় জমান বহু মানুষ।পার্কে ঢুকলেই দেখাযাবে একাধিক পাতাবাহারি গাছ আর ফুলের বাগাান।রয়েছে বিভিন্ন রকম খাবার দোকানের স্টলও।পার্কের ভেতর জলাশয়ে বোটিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।পার্কের ভেতর বিভিন্ন মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যও লক্ষ্য করা যায়।মন চাইলে পর্যটকরা এখানে খেলাধূলাতেও মেতে উঠতে পারেন।দীঘা সমুদ্রের কাছে প্রর্যটকরা রাত্রিযাপনও করতে পারেন,তার জন্য সমুদ্রের কাছে রয়েছে বহু হোটেলও।তবে বহু বার বহু ঘটনা ঘটে এই হোটেলের মধ্যে,তাই এবার সক্রিয় হচ্ছে হোটেল কতৃপক্ষও।


দীঘা ছাড়াও পর্যটকরা উপভোগ করতে পারেন গেঁওখালি নদীর সৌন্দর্য।হাওড়া থেকে হলদিয়ার ট্রেন ধরে সতীশ সামন্ত স্টেশনে নেমে গেঁওখালির বাস ধরে কিছুটা হাঁটলেই পর্যটকরা পৌছে যাবেন গেঁওখালি।পরিবহন মন্ত্রীর ঘোষনা মতো এখন গেঁওখালিতে শেষের পথে সৌন্দর্যায়নের কাজ।নদীর পাড় সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে খোলা জায়গায় ছড়ানো রয়েছে পিকনিকের এক মনোরম পরিবেশ।গেঁওখালির নিঃস্তব্দ নদীর সৌন্দর্য বহু পর্যটককেই হাতছানি দেয়।পায়ে হেঁটে কিছুটা পথ এগোলেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী মিরপুর চার্চ।বড়দিন উপলক্ষে নানান সাজে সেজে উঠেছে এই চার্চ।চলছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠানও।চার্চের ভেতর প্রবেশ করলেই দেখাযাবে যিশুর জীবণ চিত্র।মনের মন্যে প্রবেশ করবে এক অন্য শান্তির বাণী।পর্যটকদের জন্য এখানকার অধিবাসীরা ব্যাবস্থা করেন নানান স্বাদের কেকের।কিছুটা এগোলেই থাকছে নাটশাল আশ্রম সংলগ্ন বাংলো।নতুন বছরের সূচনার দিন এখানে গেলে দেখামিলবে বর্তমান যুগের রাধাকৃষ্ণদের কৃষ্ণলীলা।


বাসে কিংবা টোটোতে কয়েক কিলোমিটার এগোলেই পর্যটকরা দর্শণ করতে পারবেন ঐতিব্যবাহী মহিষাদল রাজবাড়ির।রাজার গড়ে পর্যটকরা মনখুলে করতে পারবেন পিকনিক।এখানকার সৌন্দর্য পর্যটকদের মন মুগ্ধকরে।তাই প্রায়শই চড়ুইভাতির আনুষ্ঠান এইসব জায়গায় লেগে থাকে।রয়েছে রাজার একাধীক দিঘি।এখানকার বিশালাকার দিঘির চারপাশ জুড়ে রয়েছে প্রচুর আাম গাছ।রয়েছে রাজবাড়ির গোপালজিউর মন্দির মন্দির।এছাড়াও রয়েছে রাজার স্মৃতি বিজড়িত সংগ্রহশালা।মাত্র ১০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে পর্যটকরা দেখতে পাবেন এই সংগ্রহশালা।

কিছুটা এগিয়ে গেলে দুঃখে মন কেঁপে উঠবে পর্যটকদের।রয়েছে গান্ধীজির স্মৃতি বিজড়িত অনাথ আশ্রম।অনাথ শিশুদের স্বজন হারানোর দুঃখে কেঁপে উঠবে মন।এখানে ২৫ শে ডিসেম্বরের দিন এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন জাতীর জনক মহাত্মা গান্ধী।
সমগ্র বিষয়কে একত্র করে এবছর পূর্ব মেদিনীপুর পর্যটকদের দিতে চলেছে সুখ-দুঃখের মিশ্রন।তাই প্রস্তুত হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর ও পর্যটক উভয়েই।

Please follow and like us:

Related posts