পট এঁকে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার লাভ চণ্ডীপুরের কল্পনা চিত্রকরের

স্টাফ রিপোর্টার:পট এঁকে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেলেন পূর্ব মেদিনীপুরের চন্ডিপুরের পটশিল্পী কল্পনা চিত্রকর। ২০১৬ সালে সাঁওতাল জনজাতির জন্মকথার ওপর আঁকা পটচিত্রের জন্য রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেলেন তিনি।ছোট থেকেই গান শুনতে ও গাইতে ভালবাসতেন কল্পনাদেবী।শুক্রবার ছত্তিশগড়ের রায়পুর ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার কল্পনাদেবীর হাতে তুলে দেন বিভাগীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। অনুষ্ঠানে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং সহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।পুরস্কার পেয়ে ভীষণ খুশি কল্পনাদেবী। সেই পুরস্কার পাওয়ার খবরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে চন্ডিপুরের হবিচক, নানকারচক, মুরাদপুর এবং খড়িগেড়িয়ার পটুয়া পাড়ায়। কল্পনাদেবী ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে শিখেছিলেন ঠাকুর ,পুতুল তৈরির কাজ। পরে চিত্রকর বাড়িতে বিয়ে হওয়ার জন্য শিখেছেন পট আঁকতে ও গান গাইতে। তার ওপর লন্ডন ফেরত পটশিল্পী নুরদিন চিত্রকর হলেন কল্পনাদেবীর স্বামী। স্বামীর কাছেই তিনি শিখেছেন কিভাবে পটচিত্রে ভাব ও রস মিশিয়ে মনের কাছাকাছি আনা যায়।

ভেষজ রং-এ শানিত রেখার ব্যবহার, নৈসর্গিক দৃশ্য, পোশাক পরিচ্ছদ, দৈহিক গড়ন বাস্তবের কাছাকাছি তুলে ধরার জন্য কল্পনা চিত্রকরের আঁকা পটচিত্র সহজেই কলা রসিকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। কল্পনাদেবী ২০ বছর ধরে করে চলেছেন পট তৈরির কাজ। নিজের শিল্পকর্মের জন্য পেয়েছেন একের পর এক পুরস্কারও। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়ে চলেছে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার।তবে তাঁর একটাই আফসোস রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার নিতে না পারার জন্য।কল্পনাদেবী বলেন ,”দেশের অন্যতম প্রাচীন শিল্পকে দেশের সমক্ষে তুলে ধরায় আমি গর্বিত । পটশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে বিভিন্ন ধরনের মেলায় মেলায় ঘুরে বেড়ান পটশিল্পীরা। আশা করি এই পুরস্কার পটশিল্পকে এবার দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে আত্মপ্রকাশ ঘটাবে ।” দুই মেদিনীপুরের পটচিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল অনেক চরিত্রের উপস্থিতি। কিন্তু কল্পনাদেবীর রং, বর্তনা সম্পর্কে কুশলী শিল্পজ্ঞান এবং ত্রিমাত্রিকতার প্রতিটি চরিত্র ও গল্প পাশাপাশি থাকলে পটচিত্রে প্রকাশ পায় স্বাতন্ত্রভাব। তাঁর পটশিল্পে বিভিন্ন রং-এর ব্যবহার তাঁকে আরও উজ্জ্বল করে। আর সেটার কারণেই এই পুরস্কার বলেই দাবি কল্পনাদেবীর স্বামী নুরদিন চিত্রকরের।

Please follow and like us:

Related posts