মানব সভ্যতা কে গ্রাস করছে থার্মকল ও প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ

Raise voice against use of plastic

মানব সভ্যতা কে গ্রাস করছে থার্মকল ও প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ।

মধুসূদন পড়ুয়া, হলদিয়া : শীত আসার সাথে সাথে আমরা মাতছি চড়ূইভাতি বা পিকনিকে। আনন্দ উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে নিজেরা DJ বক্স বাজিয়ে নিজেদের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতি করছি পাশের মানুষের।

কোথায় হচ্ছে বেশি দূষণ:

পূর্বমেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যেমন হলদি নদীর তীর, বালুঘাটা সান সেট ভিউ পয়েন্ট, গেঁওখালি ত্রিবেণি সংগম, রূপনারায়ন নদের তীর সহ তমলুকে নদী পাড়ের বিভিন্ন জায়গায়, কোলাঘাট এ নদীর পাড় সহ বিভিন্ন পিকনিক স্পট এ দেখা মিলছ কেবল থার্মকল এর তৈরী সামগ্রী, সারি সারি প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ ও Use and through জলের বোতল। যা আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ কে বড়সড় একটা দূষণ এর মুখে ঠেলে দিচ্ছে একটু একটু করে।

আমরা কিভাবে দায়ী:

আমরা নিজেদের সুস্থ রাখার জন্যে প্রাতভ্রমণ থেকে শুরু করে জিমে যাওয়া সব করছি এবং তার পরে আবার আমরা এই থার্মকল এর তৈরী সামগ্রী ও প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ ব্যবহার করছি লাগাম ছাড়া হয়ে।

প্লাস্টিক দ্রব্যের অত্যধিক ব্যাবহারে আমাদের ভবিষ্যত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

ভারতবর্ষের সমীক্ষা বলছে আগামী কুড়ি বছরের মধ্যে প্রতিটি পরিবারে একজন করে ক্যানসার আক্রান্ত রোগী থাকবে। কখন কারন খুঁজে দেখিনা আমরা। এই ক্যানসার রোগের একটি কারণ কিন্তু এই থার্মকল ও প্লাস্টিক ক্যারি ।

 

কিভাবে আমাদের শরীরের ক্ষতি হয় প্লাস্টিক থেকে?

থার্মকলএর তৈরী সামগ্রীর ওপর গরম খাওয়ার পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হয় এবং সেই রাসায়নিক বিক্রিয়াতে সৃষ্ট ক্ষতিকারক পদার্থ আমাদের শরীরে যাচ্ছে খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে। সৃষ্টি হচ্ছে ক্যানসার এর মতো মারন রোগ। আমরা একটু সুখের আশায় সারা জীবনের অসুখ ডেকে আনছি দিন দিন। প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ ও থার্মকল এর তৈরী সামগ্রীর কারণে এলাকার নালা, খাল-বিল, নদ – নদী হচ্ছে দূষিত। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এলাকার নালা ও খালের মুখ সামান্য বৃষ্টির জলে ডুবে যাচ্ছে এলাকা।

শুধুতাই নয়, এই প্লাস্টিক ও থার্মকল জাত দ্রব্য এর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা বাকি প্রাণীকুলও! আমরা প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ এ বেঁধে বাড়ির সব্জির খোসা ফেলে দেই আর সেই খোসা খাওয়ার সময় গরু, ছাগল এর শরীরে প্রবেশ করছে এই প্লাস্টিক।

অবাকলাগে গভীর সমুদ্রও আজ নিরাপদ নয় সেখানেও পৌঁছে গেছে এই প্লাস্টিক।

প্লাস্টিক পড়ালে কি হয়?

প্লাস্টিক এর গড় আয়ু প্রায় এক হাজার বছর। মজার বিষয় এই গড় আয়ু জানার পর আমরা অতি চালক সেজে সেগুলি কে খোলা আকাশের নিচে পুড়িয়ে ধ্বংস করার পথ বেছে নেই। কিন্তু সেটা আরো বিপদজনক।

আন্তর্জাতিক সমীক্ষা কি বলছে?

প্লাস্টিকপোড়ালে ডায়োক্সিন (সর্বাধিক শক্তিশালী কৃত্রিম কার্সিনোজেন) বাতাসে মিশে যায়। উপরন্তু, গাছ কার্বন ডায়োক্সাইড শোষণে সক্ষম হলেও ডায়োক্সিন শোষণে অক্ষম।জঞ্জাল পোড়ালেই কার্বন ডায়োক্সাইড তৈরি হয়, যার ফলে একদিকে যেমন শ্বাসকষ্টজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে বিশ্বউষ্ণায়ণ বৃদ্ধি পায়।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখযোগ্য, বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডায়োক্সাইডের পরিমাণ প্রায় ৪২০ পিপিএম (parts per million)। এই পরিমাণ প্রতি বছর ২ পিপিএম হারে বাড়ছে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রতি পাঁচ বছরে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ছে। নীতি আয়োগের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যেই ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে দেখা দিতে চলেছে তীব্র জলসঙ্কট। IMF-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৫০ মধ্যে Indian Subcontinent একটা hotspot-এ পরিণত হবে, যেখানে বিশেষতঃ গ্রীষ্মকালীন উষ্ণতা হবে এককথায় অসহ্য।

কি করা যায় তবে?

প্লাস্টিক ও থার্মকলের উৎপাদন ও ব্যবহার কমানোর উপর এবং প্রয়োজনে বায়োপ্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দিতে হবে। সর্বোপরি, অপুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার (generated mainly by the packaging industry) বন্ধ করতে হবে।

Please follow and like us:

Related posts