নন্দীগ্রামে ঐতিহ্যপূর্ণ শিব চর্তুদশী মেলার শুভ সুচনা করলেন মন্ত্রী “শুভেন্দু অধিকারী ” 

অনিমেষ বেরা,নন্দীগ্রাম,৪মার্চ : সোমবার  ঐতিহ্যপূর্ণ শিব চর্তুদশী মেলার শুভ সুচনা করলেন পরিবেশ ও পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এছাড়া উপস্থিত ছিলেন

নন্দী গ্রাম 2 পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মলিনা দাস সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সুরজিৎ রায় ,নন্দীগ্রাম থানার ওসি অজয় মিশ্র প্রমুখ।

এ দিন মন্দিরে পুজো দিয়ে মেলার শুভ সূচনা করলেন। পাশাপাশি মন্দিরে আগত দর্শনার্থীদের মিষ্টির প্যকেট ও জলের বতল তুলে দেন ।

shivratri nandigram suvendu adhikary

নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়াতে৷সারা বছর কোনো  না কোন  উৎসব এখানে  হয়ে  থাকে,সব থেকে জনপ্রিয়  হওয়ার কারণে এই মন্দির। আর এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে অনেক রহস্য।

নন্দীগ্রাম  ২নং ব্লকের অন্তর্গত  একটি সমৃদ্ধ গ্রাম রেয়াপাড়া। যে কারনে সকলের বেশি পরিচিত এই গ্রাম সেটি হল শতবর্ষ প্রাচিন শ্রীশ্রী মহারুদ্র সিদ্ধনাথ শিবঠাকুরজীউর মন্দীর। ১৯৮২ সালে সোসাইটির পক্ষ থেকে মাননীয় শ্রীবীরেশ্বর বন্দোপাধ্যায় ও শ্রীচিত্তরঞ্জন মজুমদার সহ বেশ কয়েকজন  পরিদর্শকগণের মতে মন্দীরটি দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতকের মাঝামাঝি  বাংলার সেনযুগের নির্শন বলে কথিত  হয়।

সিদ্ধনাথজীউর এই মন্দির সৃষ্টিকে ঘিরে অনেক রহস্য রয়েছে।

প্রবাদ ও জন শ্রুতি অনুযায়ী অতীতে রেয়াপাড়া গ্রামটি সমুদ্রতীরবর্তী ঘন জঙ্গলে ঢাকা এখটি দ্বীপের অবস্থান ছিল।

সমুদ্রতীরবর্তী হওয়ায় একদিন এই পথে চন্দন সওদাগর নামে একবনিক সাতটি ডিঙ্গা বোঝাই  মালপত্র  নিয়ে বানিজ্য যাত্রা পথে এই রেয়াপাড়া ঘাটে নোঙ্গোর ফেলতে বাধ্য হন প্রচন্ড পিপাসার কারনে।

ভৃত্যকে জলের সন্ধ্যানে পাঠালেন ভৃত্য কিছুটা গিয়ে একটি কুঁয়ার সন্ধ্যান পান। সেখানে তার পিতলের পাত্রে জলতোলার পর পাত্রটি সোনার পাত্রে পরিনত হল। সেই দৃশ্য দেখে ভৃত্য দৌড়ে সওদাগরের কাছে।  পত্যক্ষ করার জন্য সওদাগর  কুঁয়ো দেখে জাহাজে ফিরলেন। এটাও কি সম্বভব ! গভীর রাত্রি পর্যন্ত ভেবে ভেবে ক্লান্ত  সওদাগর ,এমন সময় স্বপ্নে   কুঁয়োর পাশে শিবঠাকুর নিজমুর্তি ধারন করে সওদাগরকে বললেন — তাঁর জন্য সাতদিনের জন্য ঐ স্থানে একটি শিব মন্দির তৌরী করে দিতে হবে । সেই মত মন্দীর তৈরী হল আর এই মন্দীরকে ঘিরে সারাবছর নানা অনুষ্ঠান ।,গাজন,চড়ক,কালিপূজো, শিবের মেলা সেই থেকেই পরমপরায় এই মেলা হয়ে আসছে।


ও সেরা শিব  চতুর্দশী মেলা এটি দশদিন ধরে চলে এই মেলা  একটি ধর্মীয় উৎসব,এই উৎসবের জন্য দিন—ক্ষণ তিথি মেনে খুব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়৷ এই মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবচ্ছর এই সময় বহু দুর দুরান্ত থেকে প্রচুর ভক্ত ও দর্শনার্থীরা অাসে৷ জাগ্রত এই শত বর্ষপ্রাচিন শিবের মন্দিরে তাঁদের মনস্কামনা পূরণের লক্ষে  শিবলিঙ্গে ডাব ,জল,বেলপাতা দিয়ে হাজার হাজার ভক্ত পূজা দেয়৷বাড়ীর মহিলারা চতুর্দশী ক্ষণ শুরু হলে বার ব্রতা করে, ঐসময় থেকে জল এমনকি মুখের থুতু ও ঢোক গেলা নিষেধ৷ যতক্ষন না পর্যন্ত শিবের পূজা দেওয়া হয় তারা উপবাসে থাকেন৷ পূজো দেওয়ার জন্য সারা মন্দির প্রাঙ্গন যাত্রীদের ভীড়ে ঠাসা হয়ে যায়, সুষ্ঠ ভাবে মন্দিরে প্রবেশ ও পূজো দেওয়ার জন্য  মঠ ও মেলা কমিটির ব্যবস্থাপনায় যাত্রীদের ভালো—মন্দের দিকটা লক্ষ্য রাখেন৷

কিন্তু সবচেয়ে মজার ও নজরকাড়া ব্যাপার হল চতুর্দশী উপলক্ষে এই মন্দির প্রাঙ্গনে বিশাল মেলা বশে৷ এটি বহু ঐতিহ্য পূর্ণ প্রাচীন গৌরবমর ঐতিহাসিকা ধর্মীয় মেলা এই মেলার জন্য সারবছর অধীর অাগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন এলাকার মানুষ৷এই মেলাতে বহু দুর—দরান্ত থেকে প্রচুর দোকান অাসে  সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য  ব্যাপার হল একটি  ঘর সংসারে ঘরকন্নার যত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এই মেলা থেকে পাওয়া যায়৷ সবং এর মাদুর, ধামা, কুলো, ঝুড়ি,কলসী,এছাড়া চিনামাটির দোকান.কাঁশা,পিতল,স্টীল,প্লাস্টিক,ইমিটেশান,বিপুল শাড়ীর স্টল ও চিত্ত বিনোদনের জন্য রয়েছে সার্কাস, মরণ কুঁয়া,নাগরদোলা প্রভৃতি৷

মেলা ও মঠ কমিটির সম্পাদক ও সভাপতি সসবিঁন্দু পালই ও মহাদেব বাগ বলেন সকাল থেকে রাত এগারটা পর্যন্ত মেলা চলে বহু দুর দুরান্তের যাত্রীরা অনুমতি সাপেক্ষে ভেতরে নাট মন্দিরে রাত কাটাতে পারেন৷ সারা রাত মেলা চত্তরে স্বেচ্ছাসেবকরা যাত্রী সেবা ও পাহারায় নিযুক্ত থাকেন৷

Please follow and like us:

Related posts