কাঁথিতে আর একবার অশান্তি সৃষ্টি করার চেস্টা করা হলে নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগের হুশিয়ারি শুভেন্দুর

কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে অমিত শাহের পাল্টা সভা করল তৃণমূল।কেন্দ্রের দুর্নীতিগ্রস্থ সাম্প্রদায়িক ও নৈরাজ্য সৃষ্টকারী বিজেপি সরকারের পতনের দাবিতে আয়োজিত সভায় রাজ্য তৃণমূলের মহিলা সভানেত্রী ও রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিভাজনের রাজনীতি আর চলবে না।তাই বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের সরব হতে হবে।” অমিত শাহকে তার পাল্টা চ্যালেঞ্জ, “আগে এই জেলার সভাপতির বিরুদ্ধে লড়াই করে দেখুন।তারপর আপনি বাংলার কথা ভাববেন।আমি বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহের কাছে মানহানির নোটিশ পাঠিয়েছি।গোধড়ার হাত সারা বিশ্ব দেখেছে।সারা ভারতবর্ষে বিজেপি গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।এখন বিজেপি বিচার ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত এবং অবমাননা করছে।” তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটাও আঁচ তুলবেন না।ব্রিগেড যাবে বাম নিয়ে যাচ্ছে রাম।কারন বামেদের ট্রেনে করে ব্রিগেডে নিয়ে যেতে হবে।সংগ্রামের আরেক নাম তৃণমূল।এ দিনের জনসভা ব্রিগেডে পরিণত হয়েছে।বিজেপি ব্রিগেড করে দেখাতে পারল কোথায়? সাড়ে চারবছর পর মোদী সরকার কৃষকদের ২ হেক্টর জমিতে ছ’ হাজার টাকা দেবে।কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের আগেই কৃষি বিমা, ভাতা, পেনশন চালু করেছেন।” বিজেপিকে তাঁর কটাক্ষ, “আগে দুটো আসন রক্ষা করুণ, তারপর ২৩ টি আসনের কথা ভাববেন।২০১৯ বিজেপি ফিনিশ।তাই আমাদের সারা ভারতবর্ষ থেকে বিজেপিকে হঠাতে হবে।” এ দিনের সভায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি ও কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী বলেন, “দাঙ্গাবাজ, খুনি ভারত থেকে হাঠাও।কাঁথিতে অমিত শাহের সভায় দেড় হাজার চেয়ার, আর ৩২০০ বাসে পাঁচজন, সাতজন করে নিয়ে এসে কত লোক হয়েছিল তা আমরা জানি! মমতার কার্বন কপি করে লোকসভায় বাজেট করেছে মোদী।লাল জমা পরা খুনিরা গেরুয়াতে নাম লিখিয়েছে।এখানে কিছু ভুত এসে ঘেউ ঘেউ করছে।” তিনি আরও বলেন, “গত নির্বাচনে কাঁথিতে একটাও বুথে কোন পুনঃনির্বাচন হয়নি।” সভায় রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্যের পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা চার দিনের মধ্যে কাঁথি ও এগরা মহকুমার মানুষদের নিয়ে সভা করেছি।বিজেপি লোকসভার আগে এখানে আর সভা করতে পারবে না।” তিনি আরও বলেন, “সেদিন বিজেপির গুণ্ডারা আমাদের বেশকিছু কর্মী-সমর্থককে রক্তাক্ত করেছিল।আমি শুধু খড়গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষকে বলব, তোমার জন্ম হওয়ার আগে থেকে আমার পরিবার রাজনীতি করে।রাজীব গান্ধী, জ্যোতি বসুরা এসেও কাঁথিতে জিততে পারেনি।আপনি তো ছাড়।দিঘা-তমলুক রেলপথ করেছে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তাজপুরে সমুদ্র বন্দর গড়ে উঠবে।” বিজেপিকে তাঁর কটাক্ষ, বাংলার মাটি দুর্যোয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বিত্ত।সেদিন এখানে বহিরাগত লোকদের নিয়ে অশান্ত পাকিয়েছিল।আমরা তাদের হঠিয়ে দিয়েছি।আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে উৎখাত করতে হবে।যেখানে বিজেপি মিছিল, সভা করবে সেখানে আমরা পালটা করব।নতুন বোতল আর পুরানো মদ।আমরা তাদের উৎখাত করব।আমি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করছি, কাঁথি লোকসভা ভোটে আমরা যদি আমাদের তৃণমূলের প্রার্থীকে আড়াই লক্ষ ভোটে জিতাতে না পারব, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।” বিজেপিকে তাঁর তীব্র আক্রমণ, “আমরা নিউট্রনের তৃতীয় গতিসূত্র জানি যে, এভরি একশন হ্যাজ ইকুয়েল রিয়েকশন।” তবে কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি তপন মাইতির দাবি, “বিজেপি সর্বভারতীয় দল।তাই ভারতবর্ষের সব জায়গাতেই মিটিং, মিছিল, সভা করতে পারে বিজেপি।তৃণমূল যেভাবে মানুষকে ভয় দেখিয়ে সভায় আসতে বাধ্য করাচ্ছে।এর থেকে প্রকৃত স্পষ্ট যে, তাঁদের আর জন সমর্থন নেই।পায়ের তলায় মাটিও নেই।তাই শুধু সময়ের অপেক্ষা করুণ আগামী লোকসভা ভোটে মানুষ তাঁদের বুঝিয়ে দেবে।আমরাও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।” এ দিনের সভায় ছিলেন তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সভাধিপতি দেবব্রত দাস, জেলা তৃণমূলের কার্যকারী সভাপতি ও রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি, জেলা যুব তৃণমূলের কার্যকারী সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি, জেলার সহকারী সভাধিপতি শেখ সুফিয়ান-সহ জেলার সমস্ত বিধায়ক ও অন্যান্য নেতৃত্বরা।

Please follow and like us:

Related posts